শনিবার, ১৮ Jul ২০২৬, ০১:৪০ পূর্বাহ্ন

চৌগাছায় চুরির অভিযোগে গৃহবধূর চুল কর্তন ও শিশুকন্যকে নির্যাতন

নিজস্ব প্রতিবেদক, নগরকন্ঠ.কম : চৌগাছায় সোনার গয়না চুরির অভিযোগে ও পরকীয়ার অপবাদ দিয়ে এক গৃহবধূকে (৩৫) শারীরিক নির্যাতনের পর মাথার চুল কেটে দিয়েছে ভাড়া বাসার মালিকের স্ত্রী ও তার দুই মেয়ে। একইসঙ্গে ওই নারীর চার বছর বয়সী মেয়েকেও মারধর করা হয়েছে। বর্তমানে নির্যাতিত ওই গৃহবধূ ও তার মেয়ে চৌগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

বুধবার গভীর রাতে চৌগাছা সদরের আট নম্বর ওয়ার্ডের কারিগরপাড়ার একটি বাড়িতে নির্যাতনের ঘটনাটি ঘটে।

এ ঘটনায় নির্যাতিত নারীর স্বামী ৩ জনকে আসামি করে চৌগাছা থানায় মামলা করেছেন। পুলিশ মামলায় ভাড়া বাসার মালিক জাফর ইমামের স্ত্রী সুলতানা রাজিয়া (৪৫) ও তার দুই মেয়ে জান্নাত আরা ইমাম (২৪) ও সুমাইয়া ফারজানাকে (২০) গ্রেফতার করেছেন।

চৌগাছা থানায় নির্যাতিতা নারীর স্বামী ইউনুছ আলীর লিখিত এজাহার সূত্রে জানা গেছে, প্রায় আট মাস ধরে তিনি স্ত্রী ও শিশু কন্যাকে (৪) নিয়ে জাফর ইমামের বাড়িতে ভাড়া থাকেন। গত ২৬ জানুয়ারি তিনি বাসায় স্ত্রী-শিশু সন্তানকে রেখে গ্রামের বাড়ি অভয়নগর উপজেলার ধোপাদী গ্রামে যান। এরপর ১ ফেব্রুয়ারি বাড়ির মালিকের মেয়ে সুমাইয়া ফারজানা মোবাইল ফোনে তাকে জানান, তার স্ত্রী সোনার গয়না চুরি করে পালিয়েছেন। এরপর ৩ ফেব্রুয়ারি ফিরে তিনি ভাড়াটিয়াদের সঙ্গে নিয়ে স্ত্রীকে খুঁজে বের করে বাড়িতে আনেন।

এ ঘটনায় চৌগাছা থানায় একটি মামলা হয় এবং পুলিশ তার স্ত্রীকে আদালতে পাঠায়। সেখান থেকে জামিনে মুক্তি পেয়ে বুধবার তারা ভাড়া বাসায় গেলে রাত ১২টার দিকে ভাড়াটিয়ার স্ত্রী ও দুই মেয়ে তাদের শোয়ার ঘরে গিয়ে কথাকাটাকাটির এক পর্যায়ে ইউনুছের স্ত্রীকে বেদম মারপিট করে। এসময় তার শিশু কন্যাকে (৪) মারধর করে।

লিখিত অভিযোগে তিনি বলেন, ‘বাগবিতণ্ডার এক পর্যায় আমার শিশুকন্যাকে দিয়ে আমাকে জিম্মি করে আমার স্ত্রীর মাথার চুল কেটে দেয় এবং উপর্যপুরি আঘাত করে রক্তাক্ত জখম করে। আমাদের চিৎকার শুনে পাশের বাড়িগুলোর বাসিন্দারা এসে আমাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে।’

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন নারী জানান, ‘আমার সিজারিয়ান অপারেশনের জায়গা, মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করা হয়েছে। আমার শিশু কন্যাকে এমনভাবে আঘাত করেছে চিকিৎসকরা তার বিভিন্ন পরীক্ষা দিয়েছেন।’

চৌগাছা হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. নাহিদ সিরাজ বলেন, ‘বড় ধরনের কোনো আঘাত আছে কি-না পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর বলা যাবে।’

চৌগাছা থানার ওসি রিফাত খান রাজীব বলেন, ‘এ ঘটনায় মামলা হয়েছে এবং অভিযুক্ত তিন নারীকেই গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতারদের বৃহস্পতিবার দুপুরে আদালতে পাঠানো হয়েছে।’

নগরকন্ঠ.কম/এআর

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2017 Nagarkantha.com